ধরুন হঠাত একদিন আপনি একটি ইমেইল পেলেন একজন অপরিচিত মানুষের কাছ থেকে যার সাথে আপনি কোনভাবেই পূর্ব পরিচিত নন। এখন সেই অপরিচিত মানুষটির মেইলের রিপ্লাই আপনি করবেন কি না সেটা নির্ধারনের আগে আপনার মানুষটির (সেন্ডার) সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে নেয়ার দরকার হতে পারে। কিন্তু কীভাবে?
মূলত এই রিভার্স ইমেল লুকআপের জন্য গুগল সবচাইতে ভালো পন্থা। তবে এজন্য সেই সেন্ডারের একটি ওয়েবসাইট থাকতে হবে অথবা সেই ইমেইলটি কোন না কোন পাবলিক ফোরামে ব্যবহার করতে হবে, আর এভাবেই গুগল সেই মেইল আইডিটি সনাক্ত করতে সক্ষম হবে। আমাদের দেশে অবশ্য ফোরাম খুবই কম মানুষেরই আছে এবং ওয়েবসাইট ব্যবহার করেন এরকম মানুষের সংখ্যা আরও নগণ্য।
যাই
হোক, যদি আপনার কাছে কারও ইমেইল অ্যাড্রেস থেকে থাকে এবং আপনি তাকে খুঁজে বের করতে চান বা তার সম্পর্কে
কিছু তথ্য জানতে চান তবে নিচের পদ্ধতিগুলো কাজে আসতে পারে।
নোট
- পদ্ধতিগুলো অনেকগুলো বিষয়ের উপর নির্ভর করে। সার্চ ইঞ্জিনগুলো কীভাবে কোন কোন সিনট্যাক্স ব্যবহার করে সার্চ করে থাকে এই বিষয়গুলো জানা
থাকলে সহজেই আপনি এসম্পর্কে বুঝতে পারবেন। তাই, অনেক ক্ষেত্রেই পদ্ধতিগুলো কাজে নাও আসতে পারে।
রিভার্স
ইমেইল লুক-আপ পদ্ধতিটিকে আমরা
তিনটি পদ্ধতিতে বিভক্ত করতে পারি।
- সেন্ডারের লোকেশন সপর্কে জেনে।
- ফেসবুকের মাধ্যমে।
- অন্যান্য সকল সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে।
- পিপল সার্চের মাধ্যমে।
চলুন,
পদ্ধতিগুলো সম্পর্কে সংক্ষেপে জেনে নেয়া যাক।
লোকেশনের
মাধ্যমে
প্রাপ্ত
ইমেইলটির হেডার অংশ ওপেন। ইমেইলের হেডার অংশ কীভাবে ওপেন করতে হয় তা জানার
জন্য একটু গুগলে সার্চ দিন, পেয়ে যাবেন। বিভিন্ন ইমেইল সার্ভিস এবং ইমেইল ক্লায়েন্টের জন্য পদ্ধতি হালকা ভিন্ন। যাই হোক, হেডার অংশ ওপেন করার পর দেখবেন পেজটির
Received from এর পাশেই স্কয়ার ব্রাকেটের মাঝে কিছু আইপি অ্যাড্রেস দেখতে পাবেন। যদি মাল্টিপল এন্ট্রি দেখতে পান তবে সেখান থেকে লাস্ট এন্ট্রিতে থাকা আইপি আড্রেসটি ব্যাবহার করুন।
ফেসবুকে
সাহায্যে
বর্তমানের
প্রায় সবারই একটি করে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট আছে। তাই আপনি সেই সেন্ডারের ইমেইলটি ফেসবুক সার্চের মাধ্যমে সার্চ করে। এভাবে সহজেই ইমেইল অ্যাড্রেসের মাধ্যমে আপনি ব্যক্তিটির সম্পর্কে জানতে পারবেন।
তবে
ব্যবহারকারী যদি তার প্রাইভেসি সেটিংসে ইমেইল দিয়ে খুঁজে পাওয়ার ফিচারটি বন্ধ করে দেয় সেক্ষেত্রে এই পদ্ধটি কাজ
করবেনা।
অন্যান্য
সকল সামাজিক যোগাযোগ সাইটের মাধ্যমে
ফেসবুকের
মতই আপনি অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে ইমেইলটি ব্যবহার করে খুঁজে দেখতে পারেন। এজন্য আপনি knowme'র সেবা নিতে
পারেন, এর মাধ্যমে সেই
ইমেইল ব্যবহার করে কোন আইডি কোন সোশ্যাল নেটওয়ার্কে আছে কিনা তা জানতে পারবেন
সহজেই। ধরুন, আপনার সেন্ডারের ইমেইল আইডি যদি এমন হয় 'blue_water@gmail.com' তবে blue_water ব্যবহার করে অন্যান্য আইডি অনেক সোশ্যাল মিডিয়াতেই তিনি তৈরি করে রাখতে পারেন। তাই, আপনি blue_warer দিয়ে খুঁজেও ভালো ফলাফল পেতে পারেন।
জিমেইলের
ব্যবহারকারীরা Rapportive অ্যাড-অনটি ব্যবহার করতে পারেন, এর ফলে টুইটার
বা লিঙ্কড ইনে থাকা প্রোফাইলগুলো তাদের প্রোফাইলের সাথে অ্যাসোসিয়েটেড ইমেইলগুলোর মাধ্যমে খুঁজে পাওয়া সহজ হবে।
পিপল
সার্চ

যদি
উপরের একটি মেথডও কাজ না করে তবে
আপনি Pipl বা Spokeo এর মত কিছু
সেবা গ্রহণ করতে পারেন। এই সেবাগুলো ব্যবহার
করে এদের ডেটাবেস থেকে ইমেইলের সাহায্যেও খুঁজে পেতে পারেন উক্ত প্রেরককে।
এই
ছিল রিভার্স ইমেইল লুকআপের পদ্ধতিগুলো। আশা করি আপনার বুঝতে পেরেছেন। শেষ করবার আগে আবারো বলছি পদ্ধতিগুলো কিছু বিষয়ের উপর নির্ভর করে তাই সব ক্ষেত্রেই যে
পদ্ধতিগুলো কাজ করবে এরকম নিশ্চয়তা আমি দিতে পারছিনা। ভালো থাকবেন।






0 comments:
Post a Comment