Monday, November 2, 2015

হ্যাং বা ফ্রোজেন কম্পিউটারকে নিরাপদে শাটডাউন করার পদ্ধতি

সহজ একটি বিষয়ের উপর টিউটোরিয়াল লিখতে বসলাম আজ, এবং এই সহজ টিউটোরিয়াল লিখতে বসার পেছনে রয়েছে অদ্ভুত একটি মজার কারণ। কিছুদিন আগে আমি আমার এক বন্ধুর বাসায় গিয়েছিলাম। বন্ধুটি কম্পিউটারে আমাকে একটি প্রজেক্ট সম্পর্কে দেখাচ্ছিল এবং হঠাত করেই কোন এক কারণে তাঁর কম্পিউটারটি হ্যাং হয়ে গিয়েছিল। তো হ্যাং হবার পর কোন কিছু চিন্তা না করেই সে সরাসরি পাওয়ার আউটলেট থেকে মেইন সুইচটি বন্ধ করে চালু করলো, ফলে কম্পিউটারটি থেকে বৈদ্যুতিক কানেকশন বিচ্ছিন্ন হওয়ায় কম্পিউটারটি বন্ধ হয়ে গেল এবং এরপর সে আবার কম্পিউটারটি অন করে তাঁর কাজ পুনরায় আমাকে দেখাতে লাগলো। এই সমগ্র প্রসেসটি আমি হতবাক হয়ে দেখলাম!! যাই হোক, বন্ধুর এই প্রসেসটি মনে হয় অনেকেই ফলো করে থাকেন তবে আপনি কি জানেন এই ফিচারটি খুবই বিপদজনক আপনার পার্সোনাল কম্পিউটারটির জন্য? হঠাত করে এভাবে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে কম্পিউটারের যে কম্পোনেন্টটি সবচাইতে বেশি ক্ষতি হয় তা হচ্ছে এর পাওয়ার সাপ্লাই, এবং এরপরে থাকে মাদারবোর্ড। তাই, আপনার কম্পিউটারটি যদি হ্যাং হয়ে যায় তবে দয়া করে এই প্রসেসটি ফলো করবেন না। ভাবছেন, 'এতদিনতো এভাবেই করলাম, কিছুই তো হয়নি!' বোকামি করবেন না, এতদিন হয়নি দেখেই যে হবেনা সে কথার গ্যারান্টিতো আর কেউ দেয়নি, তাইনা? যাই হোক, আজকের লেখার মূল বিষয় হচ্ছে 'আপনার কম্পিউটারটি হ্যাং হয়ে গেলে তা কীভাবে নিরাপদ ভাবে বন্ধ করবেন!' চলুন শুরু করা যাক।
কীভাবে কি করবেন তা লেখার আগে চলুন জানা যাক কেন আমাদের কম্পিউটারগুলো হঠাত করে এরকম আচরণ করতে পারে।
কম্পিউটার হ্যাং হবার পেছনে সাধারণত নিচের কারণগুলো কাজ করে থাকে,
 • মেইনফাংশনিং সফটওয়্যার ফল্ট।
 • ডিফেক্টিভ হার্ডওয়্যার প্রবলেম।
• ওভার হিটিং ইস্যু।
• বাগি ডিভাইস ড্রাইভার।
ডেস্কটপ কম্পিউটারগুলোতে রিসেট বাটন থাকলেও ল্যাপটপে এই রিসেট কী থাকেনা এমনকি বর্তমানে কিছু মডার্ন মোবাইল ডেস্কটপ পিসিতেও রিসেট বাটন থাকেনা এবং এই ছোট্ট সমস্যাটিই তখন প্রকট আঁকার ধারন করে। যাই হোক, আপনার কম্পিউটার যদি হ্যাং হয়ে থাকে তবে প্রথমে কীবোর্ডের Num অথবা Caps Lock বাটন চাপ দিয়ে দেখতে পারেন কীবোর্ডে লাইট জ্বলে ওঠে কিনা, যদি কাজ করে থাকে তবে আপনার কম্পিউটারটি মূলত ফ্রোজেন হয়নি, কোন সফটওয়্যার জনিত ফল্টই হয়েছে। এক্ষেত্রে আপনি Ctrl+Shift+Esc বা Ctrl+Alt+Del চেপে টাস্ক ম্যানেজারের সাহায্যে সেই বাগি বা ফল্টি সফটওয়্যারটির প্রসেস কিল করতে পারেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উইন্ডোজ এক্সপ্লোরারের সমস্যা দেখা যায় এবং পপ-আপ বক্সে আসা ক্লোজ উইন্ডোজ এক্সপ্লোরারে চাপ দিলেই সমাধান হয়ে যায় তবে তা না হলে উপরের মেথডে ট্রাই করতে পারেন। যদি উপরের প্রক্রিয়ায় কাজ না হয় তবে আপনার ডিভাইসের পাওয়ার কী টি প্রেস করে হোল্ড করে থাকুন। যেসব স্মার্ট ডিভাইসে রিসেট বাটন নেই সেগুলোর পাওয়ার কী হোল্ড করে ধরে রাখলেই সেটি কিছুক্ষণ পর রিসেট বাটনের কাজ করে থাকে, এক্ষেত্রে বিভিন্ন ডিভাইসে বিভিন্ন রকম সময় প্রয়োজন হতে পারে।
 ব্যাস। আশা করি, এই প্রক্রিয়া ফলো করলেই আপনার কম্পিউটারের কোন কম্পোনেন্ট ক্ষতিগ্রস্থ হবেনা। আশা করি যারা এখনোও পাওয়ার আউটেলেটের সুইচ বন্ধ করে এই সমস্যা থেকে বাঁচতেন তারা এখন থেকে আর সেই কাজটি করবেন না। ভালো থাকবেন সবাই।

0 comments:

Post a Comment